প্রত্যেক শহরের নিবিড়ে চোরাস্রোত ভালবাসার। উপরিতল নির্বিকার হলেও নিরাকার নয়। শহরগুলো কোথাও এক আবার অন্য কোথাও আলাদা: অনুবাদে এক, উপদ্রবে আলাদা। কে অরিজিনাল? কেই বা কপি? রাস্তার ওপর দাড়ি গজালে কোথায় প্রাচ্য আর কোথায় পাশ্চাত্য? সিডনী জলের শহর। বাকিটা পাপড়ির। গোটা শহরের একটা নির্যাস মেলে সমুদ্রের কাছে এলে। একদিকে হার্বার ব্রিজ, অন্যদিকে অপেরা হাউস। তাদের মাঝখানে একরাশ জলে অন্ধকার ডুবে যায় আবার একদিন ভেসে ওঠে। জলের ওপর পায়ের ছাপ না পড়লেও ছায়ার ছাপ পড়ে। কান পাতলে কখনো একটা ভাষা শোনা যায় না। রাস্তার দুপাশে গান হয়। একলা বেহালাবাদক থেকে চোঙ্গা মুখে আব-অরিজিনাল যারা এই দেশের অসলী অরিজিনাল। বাকিরা অনুবাদ। গোটা মহাদেশ জুড়ে কলোনি কলোনি অনুবাদ। কালো থেকে সাদা চামড়ায় অনুবাদ ছড়িয়ে পড়ছে আলোর ফেস্টিভালে। অপেরা হাউসের একেকটা পাপড়ি অনুবাদে উজ্জ্বল। অনুবাদে কমরেড, গড়ে তোলো...
Saturday, March 7, 2015
দেশ ছাড়ার সময় ২০১৫
ভারতীয় দিনগুলো ফুরিয়ে আসার বেলায় বিষন্ন কিছু শেষ সাক্ষাত বাকি রয়ে গ্যাছে যারপর আবার দেশান্তর। অন্ততপক্ষে বছর দেড়েকের জন্য। যা কিছু রয়ে যাচ্ছে তা যা কিছু নিয়ে যাচ্ছি তার থেকে অনেকটাই বেশি। একটা বেসামাল রেখে যাচ্ছি। বন্ধুর পায়ের চারপাশে ঘুরন্ত চারটে বিড়ালের মত এই দিনরাত যেখানে ছাইদানি ভালবাসা জানে।
সিডনী ১
শহরগুলোর কোথায় কোথায় অনুবাদ হয়? অনুবাদ কি সাদা কালো না চামড়ায় ধূসর হয়ে ওঠে? হার্বার ব্রিজ, অপেরা হাউস ছাড়িয়ে রানী ভিক্টোরিয়ার বাড়ির সামনে যেখানে একলা রানী মাথা নিচু করে রয়েছেন প্রস্তরবৎ, তার একহাতে জাদুলাঠি: প্রস্পেরোর মত কবর দেবার অপেক্ষায় সেই জিয়নকাঠি। শহর থেকে শহরতলিতে গেলে কোথাও কোথাও অবিকল ইউরোপ, কোথাও আবার ভারতীয় ঘেটো। ঘেটোর ঘটে অনুবাদের ভূত চাপলে সিডনী পাণিনির দিকে চাইবে। রাস্তায় বেরোলে অসির থেকে বেশি চীনদেশী চোখে পড়বে যাদের এদেশে 'এশিয়ান' বলা হয়, আর ভারতীয়দের কেবল 'ইন্ডিয়ান'। সিডনীর হৃদকেন্দ্রে কলোনীর আগে বসবাসকারী অধুনালুপ্ত পাখিদের যন্ত্রস্থ কন্ঠ: সেও তো এক অনুবাদ যার অরিজিনাল লুপ্ত হয়েছে পৃথিবীর বুক থেকে। অনুবাদ এই সব ভ্যানিশিং ক্রিচারদের জন্য, আমাদের জন্য। অস্ট্রেলিয়ার অসলী বাসিন্দারা দেশ বলতে যা বোঝায় সাদা ইংরেজিতে তার একটাই সমশব্দ হয়: কান্ট্রি। অনুবাদ লিকার বুঝে এগিয়ে চলে, বিকার বুঝে নয়।
Thoughts on Shamitabh
A brilliant idea not so brilliantly executed...Bollywoodization plays spoilsport...Amitabh hams on occasions but pulls off other scenes only the way he can...one feels for the great actor he is and the greater actor he could have been! He would do so much the better without the melodramatic pitch which erases the difference between acting and over-acting. Dhanush is powerful and Akshara immensely cute and natural...kudos still for the voice experiment theme which has profound implications and remains uncharted especially in relation to the industry and showmanship contexts.
For me, the peak was Amitabh's remark early on in the cemetery that there is nothing to fear in a graveyard as no one ever dies in it. One goes there only after overcoming death and fear. The depth of understanding with which Mr. Bachchan delivers the brilliantly nuanced dialogue shows his class but then again one always desires more poise from an actor of his calibre.
A thought-let/একটি অণু-চিন্তাঃ
মানুষ তার মৃত্যুর সাথে এখনো বোঝাপড়া করে উঠতে পারেনি বলে ধর্মের এই রমরমা।
-------------------------------------------------------------------------------------------------
Religion has triumphed because mortality is a score human beings are yet to settle.
মিনি বাংলাদেশ
সিডনীর শহরতলি লাকেম্বায় যাকে মিনি বাংলাদেশ বলা হয়ে থাকে, সেখানে সস্ত্রীক ডালপুরী, ছোলার ডাল, সর্ষে ইলিশ, ডিমের ভর্তা, ডাল-ভাত এবং কাচ্চি বিরিয়ানি খাওয়া হল জমপেশ। তবে আরও জমপেশ হল দেওয়ালে-হোরডিংয়ে বাংলা লেখা দেখতে পাওয়া। এই প্রবাসে ওতেও অনেকটা পেট ভরে যায়। চিনিগুড়া চাল কেনা হল, সঙ্গে ঘি,পাঁপড় আর রান্নার তেল। দোকানের দাদা মিষ্টি করে আবার আসতে বললেন। এমন বাংলাদেশই তো দেখতে চাই। আমি কোনদিন বাংলাদেশ যাইনি, আমার মার দিকের শিকড় যদিও সেইখানেই। জন্মের সময় ডাক্তারের সহায়িকার কল্যাণে বাঁ চোখের বাইরের দিকে যে হাল্কা কাটা দাগটা রয়েছে সেটা কাছ থেকে আলো ফেললে তবেই দেখা যায়। হয়ত আমার ঘনিষ্ঠতম বন্ধুরাও কখনো খেয়াল করেনি। তেমনই আমার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক। অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকলে গভীর আলোর ভেতর দেখা যায় সে অনঙ্গ টান। তাই অভিজিৎ রায়দের হত্যা কষ্ট দ্যায়। দ্বিতীয়বার মাতৃহারা হবার কষ্ট।
------দোল নিয়ে খুচরো স্মরণ------
কোনদিনই সেভাবে দোল খেলিনি। খুব ছোটবেলায় একবার দুবার পাড়ায়। না ইস্কুলেও সেভাবে নয়। কলেজে একবার যা-তা দোল খেলেছিলাম, তবে সেবার দোলের থেকে বেশি স্মরণীয় ছিল আখের রসের মত ভাংপান এবং তারপরের বিপুল বেসামালঃ প্রেসিডেন্সীর মাঠে বসে কথা বলতে বলতেই মনে হয়েছিল মাঠে চিড় ধরছে। সেদিন পাতালপ্রবেশ হতে হতেও হয়নি। আজ প্রায় এক দশক পরে মনে হয়, কে জানে হয়ত হয়েছিল আমার অজান্তে। কলেজের মাটির নীচে এতো বছর শুয়ে থাকতে পারলে মন্দ হত না।
মনে পড়ে দোলের দিন বেলাবেলি স্নানে যাবার ঠিক আগে মা'র ডান হাতের মুঠোয় লুকোনো ঐ আবিরটুকু যেটার টার্গেট ছিলাম আমি আর বাবাঃ দুই আধা-অনিচ্ছুক দোল খেলুড়ে। কখনও কখনও আমিও রঙ দিয়েছি মা'কে। বেরসিক সেই স্মৃতিগুলো কড়া নাড়ছে এখন। মার হাতের ঐ একমুঠো আবির ছাড়া দোল কবে মনে রাখা কঠিন। তাই আজকাল আর মনে থাকে না। ঐ আবিরে সময়ের বিপন্নতাও আশ্বাস ছুঁয়ে রয়েছে।
ছোটবেলায় দোলের দিনে রঙ বিষয়ক বাংলা গানের একটা ক্যাসেট বাজত মনে পড়ে। তার কাভারে রঙ মাখা কয়েকটা হাত ধরে রাখতো পরস্পরকে। এখন র্যাকভর্তি সেইসব ক্যাসেট আর সাদা চাদরে মোড়া বি-পি-এল ক্যাসেট প্লেয়ার মরা সময়ের আধমরা প্রেত।
দোলের শেষ স্মৃতি বলতে সুন্দরবনে বোটে আমাদের বন্ধু-বান্ধবীদের দেদার দোল। হয়তো সেই প্রথম আর সেই শেষ অমন দামাল রঙ খেলা। মা'র টেক্সট এসেছিলো সেদিন, দোলের শুভেচ্ছা আর সম্পর্ক নির্মাণের প্রত্যাশা থেকে। সম্পর্কের নির্মাণবেলা ছিল সেই জলজ রংবেলা। এখন ডাঙায় থাকি। সম্পর্কিত। প্রবাসে ফেসবুক দেখে বুঝলাম দোল ছিল। আমার বাসার রঙ নিয়ে এলো সেইসব ছবি আর তাদের সদা- নির্মীয়মান স্মৃতিরেখা। এইসকল স্মৃতিরেখা বরাবর ক্রমশ বলিরেখা প্রকট হয়ে ওঠে।
এ আমার রংবেলার গান।
"এখন অচেনা রঙ দেখি
হেমন্ত এটুকু দেবে কি?
...
এখন রিক্ত হতে শেখা
বয়স্ক মুখে বলিরেখা
তবু কামনার কানাকানি"
হেমন্ত এটুকু দেবে কি?
...
এখন রিক্ত হতে শেখা
বয়স্ক মুখে বলিরেখা
তবু কামনার কানাকানি"
Subscribe to:
Posts (Atom)